| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিএনপি পরিষদের শপথ না নেওয়ায় অনিশ্চয়তায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৬ ইং | ২২:২৫:০২:অপরাহ্ন  |  ৬৬৫৯৬১ বার পঠিত
বিএনপি পরিষদের শপথ না নেওয়ায় অনিশ্চয়তায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ

স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যরা সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলীয়ভাবে এমপি হিসেবে শপথ নিলেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। ফলে পরিষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ৬০ সদস্য উপস্থিত থাকলেই পরিষদের কোরাম পূর্ণ হবে। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়লাভ করেছে।

তবে বিএনপি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলেও জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন নির্বাচিত সদস্য এমপি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য—উভয় পরিচয়ে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির এই অবস্থানের প্রতিবাদে এনসিপি দলীয়ভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “গণভোটের জনরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করে শপথ নিতে যাচ্ছে সরকার।” অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “বিএনপি দুটি শপথ না নিলে সংসদে যাওয়াই তো অর্থহীন।”

বিএনপির অবস্থান

সংসদ সদস্যদের শপথের দিন সকালে সংসদ ভবনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাদা ও নীল রঙের দুটি ফরম হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী পরিষদ গঠিত হলে তা আগে সংবিধানে ধারণ করতে হবে এবং সদস্যদের শপথের বিধান করতে হবে। সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে তা অন্তর্ভুক্ত না করে শপথ নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।” দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি আগে থেকেই জানিয়ে আসছে, ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

জামায়াত ও এনসিপির প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সিদ্ধান্তের পরপরই জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।” পরে দলটি জানায়, তারা মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না।

জামায়াতের একজন সিনিয়র নেতা প্রথমে শপথ না নেওয়ার কথা জানালেও পরে তারা এমপি ও পরিষদের সদস্য—দুই পরিচয়েই শপথ নেন। জামায়াত জোটের এনসিপি সদস্যরাও একই পথ অনুসরণ করেন।

এককভাবে পরিষদ গঠন সম্ভব?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন। “জামায়াত-এনসিপির ৭৭ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। চাইলে তারা নিজেরাই পরিষদ আহ্বান করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এমনকি নতুন সংবিধানও প্রণয়ন করতে পারেন। তবে এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে, তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।”

আদেশে বলা হয়েছে, প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিষদকে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফলের আলোকে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। কাজ শেষ হলে পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, বিএনপি শপথ না নেওয়ায় বাস্তবে এ প্রক্রিয়া এগোনো কঠিন হবে। তাঁর ভাষ্য, “গণভোটের রায়ের কারণেই যদি আদেশ বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে যায়, তাহলে আলাদা পরিষদের প্রয়োজনীয়তা থাকে না।”

আইনি প্রশ্ন ও রিট

মনজিল মোরসেদ বলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন এবং সংবিধান সংস্কারের কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টি সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—এই যুক্তিতে অধ্যাদেশ জারির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সংসদ বসার পর অধ্যাদেশ ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে তা বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।

এরই মধ্যে গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও ফলাফল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

সামনে কী?

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—

১. সংসদে জুলাই আদেশ উত্থাপন ও অনুমোদন হবে কি না;

২. আদালতের রায় কী আসে;

৩. রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো পথ তৈরি হয় কি না।

মনজিল মোরসেদ বলেন, “সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক পথ হলো সংসদে বিল উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। অন্যথা কিছু হলে তা জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।”

সব মিলিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ এখন রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিএনপি পরিষদের শপথ না নেওয়ায় প্রক্রিয়াটি কার্যত ঝুলে গেছে—এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় উদ্যোগ, আদালতের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে এর পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪