স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কোনো ধরনের বিভাজন ছাড়াই শপথ পাঠ করিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে ৩৫ বছর পর দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় কোনো সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর গৌরব অর্জন করলেন। স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার না থাকায় এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত না হওয়ায় সংবিধান মেনে এবার সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান।
প্রেক্ষাপট ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। তবে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দি। এই শূন্যতা পূরণে সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সিইসি’র ওপর এই দায়িত্ব বর্তায়।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা ইসি সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে জানান, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা অন্য কেউ শপথ পড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় সিইসিকে এই দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হয়। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান।
ইতিহাস যা বলছে
ইসি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এর আগে ১৯৯১ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর তৎকালীন সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ পঞ্চম সংসদের সদস্যদের শপথ পড়িয়েছিলেন। তবে বর্তমান সিইসি’র ক্ষেত্রে পার্থক্য হলো, সেবার রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে সব সদস্য সিইসির অধীনে শপথ নেননি।
এবারের সংসদ একনজরে
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে তিনটি আসনের ফলাফল ঝুলে রয়েছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার সব মিলিয়ে ২৯৬ জন সদস্য একত্রে শপথ গ্রহণ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এফজে/ধ্রুব