ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে টানটান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কূটনৈতিক এই সংলাপ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা—আলোচনা ভেস্তে গেলে কি শুরু হবে সরাসরি সামরিক সংঘাত?
ইতোমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি অর্জনের জন্য বাস্তব ধারণা নিয়ে আমি জেনেভায় আছি।” বৈঠকটি সরাসরি না হলেও উচ্চ পর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংযোগ থাকবে বলে জানা গেছে। পরোক্ষভাবে এতে যুক্ত থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনও আছে, তবে চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে না।
অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। ইরানের অবস্থান, চুক্তি হলে তা হবে ‘দেওয়া-নেওয়ার’ ভিত্তিতে; শূন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি তারা মানবে না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে ইরানের সম্মতির সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে সফরকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর চুক্তি করা প্রায় অসম্ভব; চুক্তি হলেও তা টিকবে না।
এদিকে ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে সমঝোতা না হলে হামলা অনিবার্য হতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলেই অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও হাজারো সেনা মোতায়েনের কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, তেহরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের কাছে “সব অপশন খোলা” রয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া শুরু করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের হুঁশিয়ারি—তেহরানে হামলা মানেই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ, যার জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক পথেই কি সমাধান আসবে, নাকি জেনেভার বৈঠক ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের সূচনা হবে এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম