| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ ইং | ১১:২৬:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ৬৬৯৫৭৮ বার পঠিত
মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:  মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী-র ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন গোরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট, রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেলা ১১টায় রাওয়া’র হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শৈশব থেকে সামরিক জীবনের উত্থান

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ওসমানী। ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে অধ্যয়নকালে তিনি ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে কিং কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ আর্মির সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) রণাঙ্গনে যান্ত্রিক পরিবহন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ডেপুটি ডিরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে থাকাকালীন অবসর গ্রহণ করেন।

রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা

১৯৭০ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এ যোগ দেন এবং ওই বছরের সাধারণ নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সংগঠিত সামরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় অনন্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর কৌশলী নেতৃত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দেশপ্রেম জাতিকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়।

স্বাধীনতার পর তিনি নবগঠিত বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে অবদান রাখেন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে এই বীর সেনানায়ককে, যার নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রাম পেয়েছিল সুসংগঠিত দিকনির্দেশনা এবং যার অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪