আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুতে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি চুক্তি সম্ভব কি না তা যাচাই করতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আলোচনায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তবে আমি জোর দিয়েছি যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকবে, যাতে দেখা যায় একটি চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব কি না। যদি সম্ভব হয়, সেটিই আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ফলাফল কী হবে তা সময়ই বলে দেবে। গত জুনে ইরান চুক্তিতে না আসায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল,এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ট্রাম্প।
গত বছরের ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এটি ছিল প্রায় ১৩ মাসে সপ্তম বৈঠক। বৈঠকটি ছিল তুলনামূলক নীরব ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত নয়। ওমানের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী ধাপের আগে ওয়াশিংটনের অবস্থান প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই নেতানিয়াহু এ সফরে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েল চায়, যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও হামাস-হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনকেও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করে। তবে নেতানিয়াহু বৈঠকের পর এমন কোনো প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেননি যে ট্রাম্প এ দাবিতে সম্মত হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নিরাপত্তা চাহিদার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন এবং উভয় নেতা ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি মানে হবে; কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
চুক্তি না হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে তেহরান পাল্টা প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ইরান বলছে, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানি বুধবার বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আলোচনা-অযোগ্য।
গাজা পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ও গাজা পুনর্গঠনে তার ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চান। তবে হামাস নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি থমকে আছে। বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, গাজা ও সমগ্র অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
এদিকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ইস্যুতেও দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জমি কেনা সহজ করার পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হয়েছে। ট্রাম্প মঙ্গলবার পুনরায় জানান, তিনি পশ্চিম তীর দখল বা সংযুক্তিকরণের বিরোধী।
গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে বড় ধরনের ক্ষতি করে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান আবারও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া বহুমুখী সংঘাতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব কিছুটা দুর্বল হলেও তেহরানকে পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ দিতে রাজি নয় ইসরায়েল।
ওমান বৈঠকের পর উভয় পক্ষই আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানায় এবং শিগগিরই পরবর্তী দফা বৈঠকের আশা প্রকাশ করে। তবে ইরান জোর দিয়ে বলছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি