| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং: বাংলাদেশের ভোট ‘প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে’

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৬ ইং | ১২:৫২:৫৫:অপরাহ্ন  |  ৭১৯৮২০ বার পঠিত
ওয়াশিংটনে কংগ্রেসনাল ব্রিফিং: বাংলাদেশের ভোট ‘প্রশ্নবিদ্ধই থাকবে’

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে দেশের আসন্ন নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য উঠে এসেছে। বক্তাদের কেউ কেউ মত দেন, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

সোমবার ক্যাপিটল হিলে ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ শীর্ষক এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ‘হিন্দুঅ্যাকশন’ ও ‘কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা’। আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ধর্মের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা এবং চরমপন্থী রাজনীতির প্রসার বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে আয়োজন করা ভোট গ্রহণযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে।

রুবিন আরও মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়ের আড়ালে সহিংসতা বা নারীর অধিকার খর্বের মতো কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে উগ্রবাদী শক্তি অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রমনিয়ম বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে তিনি মত দেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করলে তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তার মতে, কেবল বিবৃতি নয়, প্রয়োজন হলে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও ভাবতে হবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাম্বাসেডর অ্যাট-লার্জ স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হলে তা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলে। একটি দেশের গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করে বলেন, বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। সাউথ এশিয়ান মাইনোরিটিজ কালেক্টিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

ব্রিফিংয়ে আরও অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকেরা। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকারসহ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে একাডেমিক মহলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ব্রিফিংয়ে উত্থাপিত মন্তব্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪