রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অর্থ লেনদেন ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরাই। দৈনন্দিন খরচ, জরুরি টাকা পাঠানো কিংবা অনলাইন লেনদেন সবই যেন হঠাৎ থমকে গেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারবার লেনদেন করা যাবে। একই সঙ্গে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং (আইবিএফটি) সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জারি করা নির্দেশনায় জানিয়েছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে আগের নিয়ম বহাল থাকবে। তবে অন্যান্য বেশিরভাগ এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
মোবাইল ব্যাংকিং এখন কেবল টাকা পাঠানোর মাধ্যম নয়। এটি অনেকের কাছে ‘ডিজিটাল মানিব্যাগ’। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন সেবায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। প্রায় ২৪ কোটি নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ও ১৫ লাখের বেশি এজেন্টের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে বিশাল একটি আর্থিক নেটওয়ার্ক।
বেসরকারি চাকরিজীবী তানভির আহমেদ জানান, তিনি দৈনন্দিন খরচের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। এক হাজার টাকার বেশি তুলতে না পারায় তার যাতায়াত, ব্যক্তিগত ব্যয় এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কাউকে টাকা পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মিরপুরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের গ্রামের বাড়িতে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানোর প্রয়োজন ছিল। চারবার চার হাজার টাকা পাঠানোর পর আর লেনদেন করতে পারেননি। মায়ের ওষুধের টাকাও পাঠাতে পারছেন না। এজেন্টের কাছেও গিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।
শুধু প্রেরক নয়, প্রাপকও সমস্যায় পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা ডেবিট হলেও সময়মতো ক্রেডিট হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠানোর অপশনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনে নিয়ন্ত্রণ এলেও হাতে হাতে টাকা বিতরণ বন্ধ হয়নি। এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। বিভিন্ন ভিডিওতে প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের কাছে খামে টাকা দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি উঠেছে। কোথাও প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের অভিযোগও এসেছে।
এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
মোবাইল ব্যাংকিং সীমিত হওয়ার পর এটিএম থেকেও টাকা তোলা বন্ধ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে স্বাভাবিকভাবেই টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে।
নজরদারির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনায় বলেছে
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে অবৈধ অর্থ প্রবাহ বন্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, আর এর মূল্য কি কেবল সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে?
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম