স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেওয়া ভাষণে তিনি দেশের রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি গণতন্ত্রের প্রকৃত আদর্শ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান।
ভাষণে প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন। তাঁর ভাষায়, আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এত বেশি সংখ্যক প্রার্থীর উপস্থিতি প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনই নয়, একই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশ নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে এগোবে, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় ফিরে যাবে,এই প্রশ্নের উত্তর দেবে আসন্ন গণভোট।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি