স্টাফ রিপোর্টার: দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) একটি নতুন সার্কুলার জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী সব ব্যাংক চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারবে। এর আগে আবেদন করার শেষ তারিখ ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন। সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও রপ্তানিমুখী শিল্পকে আরও গতিশীল করতে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। স্কিমটির সার্বিক তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বও এ বিভাগের ওপর থাকবে।
পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ অনুমোদন দিতে পারলেও, তহবিলের আওতায় ঋণ মঞ্জুর করার আগে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা নিতে হবে। এছাড়া তহবিল প্রাপ্যতার জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে ঋণ বিতরণ ও পরিশোধসূচি সংযুক্ত করতে হবে। ঋণ যথাযথভাবে বিতরণ হওয়ার পর ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে গ্রাহকদের তহবিল বিতরণ করতে পারবে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন কিস্তি বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
এ স্কিম ইসলামি শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্যও প্রযোজ্য। ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সময়সীমা বৃদ্ধি ছাড়া পূর্বের সার্কুলারে উল্লিখিত অন্যান্য শর্ত ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বৃদ্ধি পাবে। নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে এবং দেশের রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ খাত আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সময়সীমা বৃদ্ধি শিল্পের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
এই স্কিমের আওতায় বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারবে, এবং রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি