| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাউফলে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০২৬ ইং | ২৩:৪৬:৪৪:অপরাহ্ন  |  ৭৫৬৭৯৬ বার পঠিত
বাউফলে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হন। পরে বিকেলে উপজেলা সদরে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে।

আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত মোসা. লিয়া জাহান (২৫), জামাল মৃধা (২২) ও দেলোয়ার হোসেন গাজী (৪৫)–কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দেলোয়ার হোসেন ছাড়া বাকি দুজন জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে জামায়াতের ইউনিয়ন আমির আনিচুর রহমান (৫৫) ও সেক্রেটারি মো. আমিনুল ইসলামও রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী–২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের শফিকুল ইসলাম (মাসুদ)-এর পক্ষে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল খানকা এলাকা থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেলা ১টার দিকে ভান্ডারি বাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হাওলাদার ও শ্রমিক দলের আহ্বায়ক কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে ৪০–৫০ জনের একটি দল এ হামলা চালায়। হামলায় জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আনোয়ার হোসেন ও শ্রমিক দল নেতা কামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল পৌনে চারটার দিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর শামীম নামের এক সমর্থককে মারধর করে তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপির কর্মী–সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর সন্ধ্যায় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমানের প্রত্যাহার দাবিতে থানার সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা পর্যন্ত তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বলেন,ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে চন্দ্রদ্বীপে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বসহকারে দেখছে।বর্তমানে উপজেলা সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পটুয়াখালী–২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) এবং বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয়দের ধারণা। আসনটিতে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪