মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি এমন কোনো বাংলাদেশ চান না যেখানে “মায়ের ইজ্জত নেই” বা যেখানে দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে। সন্তান-যুব সমাজ ও ছাত্রদের কাছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ঋণী উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে—দেশকে বদলে দিতে হলে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নবীনচন্দ্র (এনসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ১১দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর। তিনি বলেন, আমি ওই বাংলাদেশ চাই না—যেখানে চাঁদাবাজে মানুষ অতিষ্ঠ, যেখানে মা-বোনের ইজ্জত নেই, যেখানে নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার।
সমাবেশে ডা. শফিকুর বলেন, তারা মা-বোনদের জন্য নিরাপদ দেশ, শ্রমজীবী ও কৃষকের মর্যাদা নিশ্চিত ও যুবসমাজের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন।
স্থানীয় প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কুলাউড়া তার জন্মস্থান; এখানে সকল ধর্ম-জাতির মানুষের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক আছে। তিনি জানিয়েছেন, এলাকার হিন্দু, মুসলিম ও ক্ষাসিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে অতীতের মতো সখ্য বজায় রাখবেন। সমাবেশে আমীর আরও বলেন, তিনি সিলেট বিমানবন্দরকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মতো উন্নত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন, কারণ সিলেটবাসীর অর্থনৈতিক অবদান দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীদের নিবিড় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রবাসী দেশে পৌঁছার আগেই প্রবাসে মারা যান, তাহলে তাদের পরিবারের পক্ষে রাষ্ট্র ফেরতভার ও আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করবে—যত খরচ করে প্রবাসে গিয়েছিলেন, সেই অর্থ ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।
চা শ্রমিকদের জন্য সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, নিজের জন্মভূমি হওয়ায় তিনি মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের কথা ভুলতে পারবেন না। শ্রমিকদের সন্তানদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার দায়িত্ব সরকারের ওপর নিতে হবে—বাগান মালিকদের একাই এই দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, সরকার নির্বাচিত হলে চা শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে যাতে শ্রমিকদের সন্তানরা মেধা-অধিকারে এগিয়ে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর মঞ্চে উপস্থিতদের উদ্দেশে নির্বাচনে সক্রিয় অংশ নিতে আহ্বান জানান এবং বলেন, ১২ তারিখ ৩০০ আসনই নির্ধারণ করবে—আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে যাবে।
অনুষ্ঠানে জেলা-স্তরের জামায়াত ও জোট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে দলীয় কর্মসূচি, আশা-আকাক্সক্ষা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়; পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক নিরাপত্তা ও কৃষক-শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি