| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের তেল, অস্ত্র ও বিমান কেনা বাড়াবে ভারত, কৃষিপণ্যে সীমিত বাজার উন্মুক্ত

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৩, ২০২৬ ইং | ১৩:৩৩:১০:অপরাহ্ন  |  ৮১২৩৪১ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের তেল, অস্ত্র ও বিমান কেনা বাড়াবে ভারত, কৃষিপণ্যে সীমিত বাজার উন্মুক্ত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নতুন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটি থেকে তেল, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও বিমান কেনা বাড়াতে সম্মত হয়েছে ভারত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষিত রাখা ভারতের কৃষিখাতে সীমিত পরিসরে বিদেশি বাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তা।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন। চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাণিজ্য বাধা শিথিল করবে বলে জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে, যার মধ্যে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, চুক্তির আওতায় ভারত টেলিযোগাযোগ ও ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে বাজারে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত সীমিত পরিসরে কৃষিপণ্যের বাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের তাৎক্ষণিক দাবির প্রেক্ষিতে চুক্তির প্রথম ধাপ দ্রুত সম্পন্ন করতে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর শুল্কও কমিয়েছে ভারত।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ই-মেইলের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার।

সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনার অঙ্গীকারের আওতায় ওষুধ, টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি তেল ও বিমান খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি একাধিক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি আরও বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।

এর প্রভাব হিসেবে মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতে ভারতের প্রধান শেয়ারসূচক নিফটি ফিফটি প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায় এবং রুপি ১ শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়ে ডলারপ্রতি ৯০ দশমিক ৪০ রুপিতে লেনদেন হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ইতিবাচক ছিল। সোমবার ডাও জোন্স সূচক ১ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়, আর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক উভয়ই অর্ধ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।

ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বলেন, ১৮ শতাংশ শুল্কহার ভারতের এশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় কম। এমন সময় এই সুবিধা এসেছে, যখন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের সঙ্গে বার্ষিক চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছেন।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে শুল্ক ১৯ শতাংশ, আর ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কহার ২০ শতাংশ নির্ধারিত রয়েছে।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের সভাপতি এস. সি. রালহান বলেন, “কম শুল্কহার শুধু মূল্য প্রতিযোগিতাই বাড়াবে না, বরং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে সহায়তা করবে।”

মুডিজ রেটিংস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হলে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রমুখী পণ্য রপ্তানি নতুন করে গতি পাবে। সূত্র: রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪