রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ইসলামি সংস্কৃতিতে শবে বরাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রজনী হিসেবে গণ্য করা হয়। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি ‘শবে বরাত’ নামে পরিচিত। ফারসিতে ‘শব’ মানে রাত এবং ‘বরাত’ মানে মুক্তি; অর্থাৎ এটি হলো ‘মুক্তির রজনী’। আরবি ভাষায় এর নাম ‘লাইলাতুল বারাআত’। হাদিস শরিফে এটিকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত বলা হয়েছে।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, শবে বরাতে কোনো ব্যক্তির ভাগ্য নির্ধারণ হয় না। কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভাগ্য নির্ধারণের রাত কোরআন নাজিলের রাতে।
মহান আল্লাহ বলেন:
“হা-মিম! সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে, আমি তো সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় আমার নির্দেশে। আমিই রাসুল প্রেরণকারী।” (সুরা দুখান ১-৫)
এ রাতে আল্লাহ পৃথিবীবাসীর প্রতি দৃষ্টি দেন এবং বহু মানুষকে ক্ষমা করে দেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে:
“মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে পৃথিবীবাসীর দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া তাঁর সৃষ্টির সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (ইবনে মাজা ১৩৯০)
করণীয় আমল
শবে বরাতের রাতে অবারিত রহমতের বারিধারা বর্ষণ হয়। মুমিনদের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগানো। বিশেষভাবে কিছু করণীয় হলো:
নফল নামাজে মগ্ন হওয়া: ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণের জন্য নফল নামাজ পড়া উচিত। রাতের নফল নামাজের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি ফজরের নামাজে বাধা না দেয়।
দোয়ায় শামিল হওয়া: আল্লাহর নিকট বিনয় ও প্রার্থনা করা, গুনাহের মার্জনা চাওয়া এবং অতীত জীবনের জন্য লজ্জা বোধ করা।
কোরআন তেলাওয়াত করা: কোরআন পাঠের মাধ্যমে সওয়াব অর্জন করা এবং মানসিক শান্তি লাভ।
বর্জনীয় আমল
শবে বরাতে কিছু কার্যকলাপ ইসলামী শাস্ত্রে বর্জনীয়। যেমন:
মনগড়া ইবাদত বা বেদআত: সম্মিলিত নফল নামাজ বা উদ্ভাবিত ইবাদত এ রাতে বর্জনীয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাদের এ ধর্মে নেই—এমন জিনিস উদ্ভাবনকারীরা তা পরিত্যাগ করবে। (বুখারি ২৬৯৭)
আতশবাজি ফোটানো ও মিছিল: ইবাদতের রাতকে বিনোদন বা উৎসবের রূপ দেওয়া উচিত নয়।
হালুয়া, রুটি ইত্যাদি বানানো: রজনীর সাথে এসবকে আবশ্যক বা ইবাদতের অংশ মনে করা ভুল।
মসজিদ সাজসজ্জা: শবে বরাতের মর্যাদা থাকলেও মসজিদ সাজসজ্জাকে বিশেষ প্রয়োজন মনে করা অনর্থক।
শবে বরাতের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নিকট দোয়া, তাওবা, নফল ইবাদত ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। ইসলামি শিক্ষা অনুসারে এই রাতকে যথাযথভাবে পালন করা মানব জীবনে আত্মিক প্রশান্তি ও আল্লাহর রহমত লাভের সুযোগ বৃদ্ধি করে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি