কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পাড় ধসে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু মোছা. নূরিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে মিরপুর উপজেলার শিমুলতলা এলাকার মীর আব্দুল করিম কলেজ সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
নিহত নূরিয়া খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ গ্রামের মো. আশিক শেখ ও মোছা. নূরনাহার খাতুনের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকার মীর আব্দুল করিম কলেজসংলগ্ন পদ্মা নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে তারা মরদেহটি নদীর তীরে নিয়ে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিমুলতলা গ্রামের বাসিন্দা বিথী খাতুন জানান, মরদেহটি দৌলতপুর দিক থেকে ভেসে ভাটির দিকে কুষ্টিয়ার অভিমুখে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা সেটি তীরে আটকে রাখার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি নূরিয়া খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ নদীভাঙনের ঘটনায় দুই শিশু নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ভুরকাপাড়া গ্রামের মো. ইজাজুল মণ্ডলের মেয়ে মোছা. জামিলা খাতুনকে (৭) জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নূরিয়া খাতুন নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস, দৌলতপুর থানা পুলিশ এবং পরে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব