ইন্টারণ্যাশনাল ডেস্ক: অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে মতপার্থক্য ও বিরোধের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত অন্তত ‘২৮ বার’ পদত্যাগের হুমকি দেন বলে দাবি করেছেন ‘হেজবুল্লাহ ইরান’-এর সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ-বাকের খাররাজি। তবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশের সশস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে আমাদের সরকারের পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। আমি কোনোভাবেই পদত্যাগ করব না এবং নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকব। যদি কখনও পদত্যাগের মতো পরিস্থিতি আসে, তবে তা গোপনে নয়, আনুষ্ঠানিকভাবেই দেশের মানুষের কাছে ঘোষণা করব।’
সম্প্রতি রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংগঠন হেজবুল্লাহ ইরানের নেতা মোহাম্মদ-বাকের খাররাজির করা এক বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাবে মাসুদ পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। খাররাজি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও তার বোনের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ভাইয়ের পারিবারিক বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।
খাররাজি তার এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন যে, নানা নীতিগত ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে পেজেশকিয়ান এ পর্যন্ত অন্তত ‘২৮ বার’ পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে খামেনির কার্যালয় থেকে তার পরবর্তী পদত্যাগপত্র সরাসরি গ্রহণ করা হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানোর পর পেজেশকিয়ান সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
২০১৩ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করলেও মোহাম্মদ-বাকের খাররাজির প্রার্থিতা বাতিল করে দেয় দেশটির গার্ড অব কাউন্সিল। সেবছর ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঘোষণা দেন, ‘যদি আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হই, তাহলে আমি ইরান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া তাজিকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের ভূমি ফিরিয়ে দেব।’
এর আগে, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে নির্বাচিত সরকারকে বাদ দিয়ে কট্টরপন্থি ধর্মীয় গোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনী সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে খামেনির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন পেজেশকিয়ান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব