এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: শোবিজ অঙ্গনের চাকচিক্যের আড়ালে রয়েছে এক অন্ধকার অধ্যায় কাস্টিং কাউচ। কাজের বিনিময়ে কুপ্রস্তাব দেওয়ার সংস্কৃতি বলিউডের বহু তারকাকে জীবনের কোনো না কোনো সময়ে স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি নিজের জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ: সচ ইয়া সজা’-এর প্রতিযোগী অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী।
তিনি জানান, সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আর্থিক সংকটে পড়ে বিনোদন জগতের এক প্রভাবশালীর কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে কুপ্রস্তাবের প্রস্তাব পেয়েছিলেন।
আকাঙ্ক্ষার ভাষ্য, ‘একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জামাকাপড় কেনা জন্য প্রায় এক-দুই লাখ টাকার দরকার ছিল। আমাদের অত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে ইন্ডাস্ট্রির এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে সাহায্য চাইতে যাই। মানুষটা খুব বড় মাপের হওয়ায় তাঁর নামটা আমি মুখে আনতে চাই না। বহু বছর ধরে তাঁকে চিনতাম, কারণ তিনি বিভিন্ন বিউটি পেজেন্টে বিচারক হিসেবে আসতেন। আমি শুনেছিলাম তিনি নাকি অনেক প্রতিযোগীকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। তাই আমিও ভাবলাম তাঁর কাছে গিয়ে দুই মাসের জন্য কিছু টাকা ধার চাই। তাঁকে এও বলেছিলাম, পরে তাঁর কোম্পানিতে কাজ করে সুদে আসলে শোধ করে দেব। আমি তো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি। তাঁর কোম্পানিতে সহজে চাকরি করতে পারতাম। আমার কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজি হয়ে যান।এরপর আমাকে সোজা তাঁর বাড়িতে ডাকেন।’
ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, “বিভিন্ন প্রশিক্ষকদের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে আগেও অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু সেদিন সেখানে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন। শুধু জড়িয়ে ধরে ক্ষান্ত হননি, খুব বাজেভাবে স্পর্শ করতে শুরু করেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সরিয়ে দিই। এরপর ওই ব্যক্তি বলেন, ‘এক বছর পর তোমাকে দেখে খুব ভালো লাগছে। এখন তুমি বেশ বড় হয়ে গেছো। এক বছর আগে যখন আমার কাছে এসেছিলে তখন তোমার মাথাটায় খুব পুরোনো আর সেকেলে বুদ্ধি ভরা ছিল। তুমি যদি সেবার আমার সঙ্গে থাকতে তাহলে এতদিন নাগাদ শোবিজ দুনিয়ায় দারুণ কোনো কাজের সুযোগ পেয়ে যেতে। তাছাড়া এখন তো তোমাকে কেউ কোনো কাজও দিচ্ছে না। আমি টাকা দেব কিন্তু তার বিনিময়ে মাসে পাঁচ-ছয়বার শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে’।”
কুপ্রস্তাবে হতবাক হয়ে আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে দেন, আমি যদি আগে থেকে বুঝতে পারতাম ওনার মাথায় এমন কোনো খারাপ মতলব আছে তাহলে জীবনেও ওনার বাড়িতে যেতাম না। আমার এই কথা শুনে সেই ব্যক্তি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে এসব নোংরা ব্যাপারস্যাপার না করলে জীবনে কিচ্ছু হয় না।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব