সিনিয়র রিপোর্টার: যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছেন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিদুর রহমান ও মোসা. আসমা খাতুন।
মামলার বিবরনী থেকে জানা গেছে, মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যশোর আদালতে ২৫ লাখ টাকার চেকের মামলা করেন মো. আসাদুজ্জামান। মামলাটি যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিচারক রাশেদুর রহমানের আদলতে শুনানি হয় এবং যাবতীয় মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে মামলাটির রায়ের তারিখ সাতবার পেছানো হয়। আদালতের কর্মব্যস্ততার কারণে রায় দিতে দেরী হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
পরে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ যশোরের দায়রা আদালতে একটি আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনে যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিচারক রাশেদুর রহমানেরেআদালতে সাতবার রায় পেছানোর ঘটনা উল্লেখ করা হয়, পাশাপাশি এই বিচারকের বিরুদ্ধে সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে খারাপ আচরণ সাতবার রায় পেছানোর কারণ হতে পারে বলে আবেদনে জানানো হয়। শুনানি নিয়ে দায়রা আদালত, চেকের মামলাটি যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর আদালতে বদলির আদেশ দেন।
দায়রা আদালতের আদেশের বিষয়টি ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিচারক রাশেদুর রহমানকে জানানো হলে তিনি আদেশটি (দায়রা আদালতের) দাখিলের নির্দেশ দেন এবং শুনানির জন্য ৪.১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন।
মামলার আইনজীবীদের দাবি, দায়রা আদালতে আদেশের অনুলিপি নামাতে দেরী হচ্ছিলো। তাই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালতে যাই এবং শুনানি করি। তবে বিচারক আমাদেরকে এক আদেশে জানান, তিনি বদলি আদেশ পেয়েছেন কিন্তু এই অনুলিপি পাওয়ার আগেই তিনি মূল মামলার রায় প্রচার করে দিয়েছেন।
এদিকে বিচারক রাশেদুর রহমানের কার্যক্রমটি আদালত অবমাননার শামিল মনে হওয়া যশোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারি সমিতির সাবেক সভাপতি দেবাশীষ দাসকে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলার দায়িত্বভার দেন।
আইনজীবী সৈয়দ শাহিদুর রহমান বলেন, আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগে করা আবেদনের ওপর আজ হাইকোর্টে শুনানি করেছি। শুনানিকালে আমরা মামলা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায় কেস রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেছি। শুনানি শেষে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাহমিদা কাদের কোনো আদেশ দেননি। তবে কনিষ্ঠ বিচারপতি আসিফ হাসান আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশ দেন। ফলে এটি ডিসেন্ডিং অর্ডার (দ্বিধাবিভক্ত আদেশ) হয়েছে। এখন নিয়ম অনুসারে মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। এরপর তিনি মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এআইএম/ধ্রুব