| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স

মালিতে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের কৌশল বদল, কমেছে নৃশংসতা

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৩, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৮:৪৫:অপরাহ্ন  |  ২২০১ বার পঠিত
মালিতে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের কৌশল বদল, কমেছে নৃশংসতা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সহনশীল আচরণ করছে এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

মধ্য মালির নাইজার নদীর তীরবর্তী পাউচি গ্রামের বাসিন্দা ও পশুপালক আমাদু বলেন, কয়েক বছর আগেও জেএনআইএমের সদস্যরা তাদের ইসলাম ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই গলা কেটে হত্যার হুমকি দিত। এমনকি স্থানীয় ইমামও সেই হুমকি থেকে রেহাই পাননি।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, জঙ্গিরা এখন ভয়ভীতি বা সহিংসতার বদলে ধর্মীয় বার্তা প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

জেএনআইএম ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। গত এক দশকে পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে সংগঠনটি। সংগীত, ধূমপান ও বিয়ের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে তারা।

ফরাসি ও জাতিসংঘ বাহিনী চলে যাওয়ার পর শক্তিশালী জেএনআইএম

২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা মালির সামরিক সরকার প্রায় ১৫ হাজার ফরাসি ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। এরপর বিদ্রোহ দমনে রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের সহায়তা নেয় বামাকো।

এরপর থেকেই জেএনআইএম আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চলতি বছরের এপ্রিলে রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা, প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা এবং উত্তরাঞ্চলে একাধিক সেনাঘাঁটি দখলের মাধ্যমে তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিয় গুতরেস গত নভেম্বরে সতর্ক করে বলেন, আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত হয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ও সামাজিক সহায়তা

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মধ্য মালির সাতজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, জেএনআইএম এখন প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করছে। তারা কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ মীমাংসা করছে, দরিদ্রদের খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করছে এবং কিছু সরকারি কর্মচারীকেও ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।

সাহেল অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ কোরিন ডুফকা বলেন, “তারা যত শক্তিশালী হয়েছে, তত কম নৃশংস হওয়ার প্রয়োজন পড়েছে।”তার মতে, স্থানীয় জনগণের অনেকে ভয়ের কারণেই এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছে। কারণ তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

শান্তিপূর্ণ শাসনের মাধ্যমে বৈধতা অর্জনের চেষ্টা


২০১২ সালে তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে জোট গড়ে ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলো মালির বড় অংশ দখল করেছিল। সে সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড, বেত্রাঘাত এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটেছিল।

বর্তমানে চারটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত জেএনআইএম শান্তিপূর্ণভাবে শাসন পরিচালনার মাধ্যমে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) নেতা বিলাল আগ শেরিফ রয়টার্সকে বলেন, জেএনআইএম এখন ইসলাম বিষয়ে স্থানীয় ব্যাখ্যা গ্রহণে আগ্রহী এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক মালির কথা বলছে।

তিনি জানান, এফএলএ জেএনআইএমকে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্থানীয় সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছে এবং এ বিষয়ে সংগঠনটির ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সংলাপে অনীহা সরকারের


জেএনআইএমের দাবি, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মালি থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে দেওয়া এবং ২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক নেতৃত্বকে অপসারণ করা।

এপ্রিলের হামলার পর ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত এক বিরল বিবৃতিতে সংগঠনটি মালির জনগণকে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইসলামি আইনভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানায়।

তবে মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিয়প মে মাসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপে বসবে না।

‘তারা আগের মতো সহিংস নয়’

মোপতি অঞ্চলের বিরগা-পিউল গ্রামের বাসিন্দা আমিনাতা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তাদের এলাকা জেএনআইএমের নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, “তাদের শাসন কঠিন হলেও আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অন্তত আমাদের হত্যা করা হচ্ছে না।”

তার মতে, বর্তমানে জঙ্গিরা ফুটবল খেলা বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সহ্য করছে।

তবে যেসব এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেখানে অবরোধ আরোপের অভিযোগ রয়েছে। মোপতি অঞ্চলের দিয়াফারাবে গ্রামের এক বাসিন্দার দাবি, এক বছরের অবরোধের কারণে খাদ্য ও ওষুধের সংকটে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ


জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের রুশ মিত্ররা বিদ্রোহীদের সহযোগী সন্দেহে বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এএসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন মালির সেনাবাহিনী ও তাদের রুশ সহযোগীদের হাতে।

তবে মালির সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের বাহিনী সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করছে।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ছয়জন বাসিন্দা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্রদের নির্যাতনের কারণেই গ্রামের অনেক তরুণ জেএনআইএমে যোগ দিয়েছে।

পাউচি গ্রামের বাসিন্দা আমাদুর ভাষায়, “মানুষ এখন তাদের ওপর বেশি আস্থা রাখছে এবং সম্পর্কটাও ভালো।”

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪