নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয় এবং কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত হৃদয়কে গুরুতর অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে একই এলাকায় বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের সমর্থকরা পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামের একটি কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে শ্রমিক দল নেতা মো. হৃদয় আহত হন। একই সময় ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমও আহত হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। অপরদিকে ছাত্রদল কর্মীদের পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহ সেলিমের বাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আবির অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ভাইকে মারধরের চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। পরে তারা বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগ দাবি করেন, তারা কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও র্যাব-১১-এর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালান। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।