বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ভারতে পাচারের শিকার হয়ে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন দুই বাংলাদেশি নারী।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা দুই নারী হলেন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের মৃত আলী হোসাইন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম (৪৩) এবং একই এলাকার কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান (২৬)।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তের চোরাপথে ভারতে গিয়ে নয়াদিল্লিতে বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে পাচারের শিকার হন।
পরে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের পাঁচ মাসের সাজা দেন। এরপর তাদের পশ্চিমবঙ্গের দমদম কারাগারে পাঠানো হয়। সাজা শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনের পর তাদের পশ্চিমবঙ্গের একটি হোমে রাখা হয়।
ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পারমিট এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী বলেন, দেশে ফেরত আসা নারীদের ট্রাভেল পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের যশোরের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংস্থাটির ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত ফেরত আসা দুই নারী সংস্থার হেফাজতেই থাকবেন।
রিপোর্টার্স/এসএন