স্টাফ রিপোর্টার: কানাডায় বসবাসরত এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে হত্যার হুমকি, দেশে থাকা তার পরিবারকে নানা রকম ভয়ভীতি-হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. তাজুল ইসলাম তাজের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিতে। তাজ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করলেও তাকে সামাজিক মাধ্যম ও ফোনে নানানভাবে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশে থাকা তার পরিবারকেও নিয়মিত ভয়ভীতি, সামাজিকভাবে অপমান ও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এতে তারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাদের কারণে এ ব্যপারে আইনি সহায়তা চেয়েও পাননি ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
তাজুল ইসলাম জানান, শুধুমাত্র যৌন পরিচয় নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। হুমকিদাতারা তাজকে সমকামী আখ্যা দিয়ে দেশে থাকা তার পরিবারকে নানানভাবে হুমকি দিচ্ছে ও চাঁদা দাবি করছে।
ভুক্তভোগী জানান, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি ফেসবুকে তাকে গালাগাল ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ইনবক্সে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তার পুরোনো কর্মস্থলে গিয়ে সমকামিতার আখ্যা দিয়ে নানারকম মিথ্যাচার করছে, যা তাজ ও তার পরিবারকে সামাজিক নির্যাতনের মুখে ফেলছে।
সমাজবাদীরা বলছেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সমকামিতা একটি সংবেদনশীল বিষয়। তবে এই সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কাউকে বা তার পরিবারকে নিপীড়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইন এবং নৈতিকতা—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিন্দনীয়।
তারা বলছেন, একজন মানুষ সমকামী হতেই পারে, তার সেই পরিচয় নিয়ে এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একটি গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন বা পরিচয়কে হাতিয়ার করে ভয় দেখানো এবং অর্থ আদায় করা নিছক অনৈতিকই নয়—এটি স্পষ্টভাবে চাঁদাবাজি এবং সাইবার অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনা রোধে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।