| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাই সনদে ‘ডট’ বসিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে: আকতার হোসেন

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৫, ২০২৬ ইং | ২২:০০:১৮:অপরাহ্ন  |  ৩০৩৮৬০ বার পঠিত
জুলাই সনদে ‘ডট’ বসিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে: আকতার হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য ছাড়াই একটি বিশেষ ‘নোট’ বা ‘ডট’ অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আকতার হোসেন। তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে কারা ছিল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথরেখা নিয়ে সরকারি দলের (বিএনপি) বর্তমান অবস্থানকে ‘শঠতা’ ও ‘স্মৃতিবিস্মৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

আকতার হোসেন বলেন, ‘১৭ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে ঐকমত্য কমিটি আমাদের যে খসড়া দিয়েছিল, তাতে কোনো ডট বা বিশেষ নোট ছিল না। কিন্তু এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী একটি নোটের কথা বারবার বলছেন। নোটটি হলো— কোনো দল ম্যান্ডেট লাভ করলে তারা সেই মতো ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই নোট নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে কোনো আলোচনা হয়নি। কোনো এক ব্যক্তি বা দল সংসদ প্লাজার সামনে এসে নিজেদের মতো করে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে যাতে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা যায়। আমি তদন্ত দাবি করছি, এই ডটটি কারা অন্তর্ভুক্ত করেছিল।’

বিরোধী দলীয় এই এমপি বলেন, ‘৩১ জুলাই ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সব ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়েছে। সেদিন বিএনপিও সেখানে ছিল। অথচ আজকে তারা ব্যাকস্পেসে গিয়ে পেছনের দিকে ফিরে যেতে চায়। সংস্কারের ঘোড়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এখন সরকারি দল তাকে লাগাম পরানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাঁচটি ধাপ রয়েছে— সনদ, আদেশ, অধ্যাদেশ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ। সরকারি দলের সদস্যরা এখন গণভোট বা সংস্কার পরিষদের কথা বলেন না, তারা শুধু জুলাই সনদের কথা বলেন, যা তাদের অনুকূলে।’

সরকারি দলীয় এক সদস্যের ‘কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল’ (আধা-সাংবিধানিক) মন্তব্যের সূত্র ধরে আকতার হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশ একটি এক্সেপশনাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। আমরা সংবিধান পুরোটা মানতেও পারিনি, ছাড়তেও পারিনি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি বা অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ— কোনোটিই প্রচলিত সংবিধানের ভিত্তিতে হয়নি, হয়েছে জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে। সেই অভিপ্রায়কে টেকসই করতেই জুলাই সনদ আদেশ জারি করা হয়েছে।’

গণভোটের বিরোধিতা করায় বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণভোটে উচ্চকক্ষ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের যে নতুন ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে, বিএনপি সেগুলো মানতে চায় না বলেই আজকে গণভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলে এখন বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তা তাদের দলগত শঠতাকেই প্রকাশ করে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইডিয়া গণপরিষদ ও সংসদের বিকল্প হিসেবে ঐকমত্য কমিশনে সব দলের সম্মতিতে এসেছিল। প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও নূরুল হক নূরও এর পক্ষে ছিলেন।

সবশেষে তিনি জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা মুলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার জন্য স্পিকারের কাছে বিনীত আহ্বান জানান।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪