শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: পূর্ব বিরোধের জেরে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চড়াচিথুলিয়া পূর্বপাড়া মহল্লায় আওয়ামী লীগ নেতার বাাঁধায় ৫ বিঘা জমিতে রোপিত প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মুল্যের পাঁকা গম, পেঁয়াজ ও নেপিয়ার ঘাস কেটে ঘরে তুলতে পারছে না।
ভুক্তভোগী ৩০ কৃষকের প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে আবাদও করতে দিচ্ছে না প্রতিপক্ষ। উপরোন্তু, ভুক্তভোগী কৃষকের ট্রাক্টরের ইঞ্জিন, মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি, হুমকি, ধামকি, হামলা, মারপিট করেও ক্ষান্ত হচ্ছে না ওই মহল্লার কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ সুবিধাভোগী কতিপয় অসাধু মহল্লাবাসী।
এ ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী কৃষকেরা। থানায় মামলা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন প্রতিকার মেলেনি বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন।
উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের দুর্গম পল্লী চড়াচিথুলিয়া পূর্বপাড়া মহল্লার ভুক্তভোগী কৃষক মোঃ মহির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এদিন সকালে পোতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য একই মহল্লার আব্দুল মালেক মোল্লা (৫০), তার ছেলে পোতাজিয়া ইউনিয়ন মৎসজীবী দলের সদস্য মিজানুর মোল্লা, ইউনিয়ন মৎসজীবী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেলিম, লিটন মিয়ার নেতৃত্বে ১০/১৫ জন মহল্লাবাসী ওই মহল্লা ভুক্তভোগী কৃষক মহির গংদের ইজারা নেয়া ৫ বিঘা জমিতে রোপিত গম, পেঁয়াজ ও নেপিয়ার ঘাস কাটতে বাঁধা প্রদান করে। এর দু’দিন আগে ভুক্তভোগী কৃষকের ট্রাক্টরের ইঞ্জিন, চাকা চুরি করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা।
এ ঘটনায় গতকাল ৩০ মার্চ (সোমবার) রাতে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের পক্ষে রহমান সরকার বাদী হয়ে নসকার সরকার (৪৫) কে প্রধান আসামি করে ৯ জন নামীয় ও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও অভিযোগ করেন, উক্ত আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন গত ২ মার্চ সকালে জমিতে সেঁচ দেয়াকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ১১ জনকে গুরুতর জখম করে। এমনকি কৃষক পরিবারের বৃদ্ধা মাতা ও গৃহবধুর ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানী করে।
শ্রমিক মোন্নাফ সরকার বলেন, কৃষক মহির উদ্দিনের জমির ফসল কাটতে তিনি, আজমত সরকার, মতিন সরকারসহ ৬ শ্রমিক ফসলের ক্ষেতে গেলে মহল্লার নশকার সরকার, সেলিম প্রামাণিক, সাইফুলসহ ১২/১৩ জন ফসল কাটতে বাঁধা প্রদান করে। তাদের বাঁধা না শুনলে শ্রমিকদের হুমকি দেয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে পোতাজিয়া ইউনিয়ন মৎসজীবী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেলিমকে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু