রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাস থেকে জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতার কেটে তীরে উঠেছেন কয়েকজন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন নারীরা জানিয়েছেন, বাসটি পানিতে পড়ার পর ভেতর থেকে জানালা দিয়ে বের হয়ে তাঁরা কোনোভাবে তীরে পৌঁছান। তবে একই ঘটনায় হাসপাতালে নেওয়া দুজন নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁদের একজন নুসরাতের মা রেহানা (৬০)।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন, বাসডুবির ঘটনায় তিনজন নারীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর দুই নারীকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালের তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর পৌরসভার বাসিন্দা নুসরাত (২৯), কালুখালী উপজেলার শিউলি খাতুন (৪২) ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লিটা খাতুন (৪০)। আর মৃত অবস্থায় আনা দুইজন হলেন নুসরাতের মা রেহানা (৬০) ও পাংশা পল্লী বিদ্যুতের কর্মী মর্জিনা (৫৫)।
ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, বাসটি নদীতে পড়ার পরপরই কয়েকজন যাত্রী বাঁচার চেষ্টা করেন এবং কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এরপর পানি থেকে অচেতন অবস্থায় দুই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁদের মৃত্যু হয়।
এদিকে রাজবাড়ী-নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি