ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬’। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টিমানসম্পন্ন উৎপাদন ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় অংশ নেন উপজেলার ১০০ জন কৃষক।
রোববার (১০ মে) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাম্মৎ শামীমা নাজনীন। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম।
কর্মশালায় আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উন্নত বীজ নির্বাচন, যান্ত্রিকীকরণ ও ফসল সংগ্রহ–পরবর্তী ব্যবস্থাপনার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, “খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে উৎপাদন বাড়ানোই ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিরুল আলম বলেন, এই প্রশিক্ষণে কৃষকদের মাঠপর্যায়ের উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায় এবং ফসলের গুণগত মান ধরে রাখা যায়, সে বিষয়ে হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া আখানগর এলাকার কৃষক জমশেদ আলী, আব্দুল ওয়াবসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে আমরা শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ করতাম। আজ নতুন কিছু কৃষিযন্ত্র ও আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিশেষ করে ফসল সংরক্ষণ ও গুণগত মান ঠিক রাখার বিষয়গুলো খুব কাজে লাগবে।
আরেক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন কৃষিতে শুধু পরিশ্রম নয়, প্রযুক্তি ও পরিকল্পনাও জরুরি। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে ধারণা পেলাম, তা চাষাবাদে বড় পরিবর্তন আনবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু