নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আগেভাগেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রীরা। নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু সাড়ে ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাসের দেখা মেলেনি। রোদে দাঁড়িয়ে, হাতে ব্যাগ-ট্যাগ আর সঙ্গে শিশুদের নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বাস কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক বাসই দেরিতে ছাড়ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
চট্টগ্রামগামী যাত্রী আরাফাত বলেন, অগ্রিম টিকিট নিয়ে রেখেছিলাম, ১০টায় গাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু সাড়ে ১১টা হয়ে গেলেও এখনো আসেনি। কখন ছাড়বে, সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। দুই ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে আছি, সঙ্গে বাচ্চা—খুব কষ্ট হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যায় অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যেও। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউবা ছোট শিশুদের কোলে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। গরমে শিশুদের কষ্ট বেড়ে গেছে, আর লাগেজ ও ব্যাগপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বাস কাউন্টারসংশ্লিষ্ট এক কর্মী বলেন, “গাড়ি সময়মতো ছাড়লেও পথে যানজটে আটকে পড়ছে। তাই পরের ট্রিপগুলো নির্ধারিত সময়ে আনা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, অনেক সময় পাম্প থেকে সময়মতো তেল না পাওয়ায় গাড়ি ছাড়তেও দেরি হচ্ছে।
এদিকে সাইনবোর্ড এলাকার অধিকাংশ কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা সাঁটানো নেই। এতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লাগামী যাত্রী আলমগীর হোসাইন বলেন, গত সপ্তাহে ৩৫০ টাকায় গেছি। আজ ৪০০ টাকার নিচে টিকিটই পাওয়া যাচ্ছে না। দুজনের জন্য ৮০০ টাকা দিয়ে নিতে হলো।
ঈদকে ঘিরে যাত্রীচাপ বাড়তে থাকায় এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক যাত্রী।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম