স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগর উত্তরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠন ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে ৫৫টি পরিবারের হাতে এসব ভালোবাসার উপহার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা ব্যক্তিগতভাবে সবসময় আপনার পাশে থাকার চেষ্টা করি। এবার আমরা সম্মিলিতভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছি যাতে আপনাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সামান্য ভালোবাসার উপহার পৌঁছে দেওয়া যায়।
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী এই পরিবারের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারসহ ২০০৬ সালের ২৪-তারিখের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের আওতায় জনকল্যাণমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধনের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া শহীদ ও গুম পরিবারের সন্তানদের স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং চাকরির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ছাড়াও অন্যান্য সরকারি মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে এই পরিবারের সদস্যদের জন্য জোরালো সুপারিশ করা হবে।
আমিনুল হক বলেন, আপনারা কখনো একা নয়। আমরা পরিবারের মতো পাশে থাকতে চাই। বর্তমান সরকার আপনাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই স্থায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো জাতীয়ভাবে উপস্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি