দাগনভূঞা (ফেনি) প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। জানা গেছে, একসময় এই খুঁটিগুলো রাস্তার পাশেই ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতের রাস্তা প্রশ্বস্ত করা হলে খূঁটিগুলো রাস্তার মাঝে চলে আসে। রাস্তার মাঝে খূঁটি থাকায় একদিকে যেমন প্রশ্বস্ত রাস্তার সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না অন্যদিকে রয়ে গেছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, এই খুঁটিগুলো কে সরাবে সেটিও জানেন না এলাকাবাসী। কারণ এটি সরানোর দায় অনুভব করছে না কোন কর্তৃপক্ষই।
উপলার আলাইয়ারপুর বদরেরনেছা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সূর্যের হাসি ক্লিনিক কৈইল্লারটেক সড়ক, শহরের দাসপাড়া ব্যস্ততম সড়ক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির, মসজিদ, ক্যাডেট দাখিল মাদ্রাসা ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। অথচ এসব ব্যস্ততম সড়কের মাঝখানে রয়েছে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। নানা কারণে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো রাস্তার মাঝখান থেকে সরানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড, বাংলাবাজার (পাকিস্তান বাজার), আমানউল্লাহপুরসহ আরও বেশকিছু জায়গায় রাস্তার মাঝখানে এমন বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রয়োজনের তাগিদে এসব সড়কে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মন্দির, মসজিদ ও ক্যাডেট মাদ্রাসার সামনে পল্লী বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি রাস্তার মাঝখানেই রয়েছে। বহুবার অভিযোগ করার পরও এসব খুঁটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগে এসব সড়ক সরু ছিল। তখন বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটিগুলো রাস্তার পাশেই স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সড়ক প্রশস্ত করা হলেও খুঁটিগুলো সরানো হয়নি। ফলে সড়ক বড় হলেও মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো যান চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। এসব খুঁটি দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা অর্জুন দাস বলেন, “দাসপাড়া সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো দ্রুত অপসারণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবাপ্রার্থী ছাড়াও স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা বেশি চলাচল করে।”
আরেক বাসিন্দা দিলীপ কুমার দাস জানান, এর আগে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে যাত্রীসহ চালক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
দাগনভূঞা মডেল দাখিল মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের প্রায় মাঝখানেই বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে আলাইয়ারপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য পিচঢালা সংযোগ সড়কের একটি অংশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা রয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত করা হলেও খুঁটি অপসারণ বা স্থানান্তরের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস ছোবান ও মো. সোহেল বলেন, “পৌরসভার উদ্যোগে সড়কটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মাঝখানেই রয়ে গেছে, যা যে কোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী জুনায়েদ কায়ছার সৌরভ বলেন, বিষয়টি ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাগনভূঞা জোনাল অফিসে আবেদন করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শনের পর প্রাক্কলন করে পৌরসভাকে অর্থের চাহিদা জানাবে। পৌরসভায় রাজস্ব বরাদ্দ থাকা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাগনভূঞা পল্লী বিদ্যুৎতের ডিজিএম প্রকৌশলী জুয়েল দাশ বলেন, “পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সাধারণত রাস্তার পাশেই থাকে। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরুর আগে চিঠির মাধ্যমে অবগত করলে আমরা খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকি। তবে এ ক্ষেত্রে কাজ শুরুর সময় পৌরসভা থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন