| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার দাবি বিরোধী দলের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৫, ২০২৬ ইং | ১৪:২৩:৫১:অপরাহ্ন  |  ৪৮২৪৮১ বার পঠিত
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার দাবি বিরোধী দলের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ বর্জন করে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলেও সেই ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল—এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না; রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধান ও আইনের আলোকে। রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা সেই ভাষণ শুনতে না চেয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেছেন। অথচ পরে ওই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য তারা ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। যদি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তাহলে সংখ্যানুপাতে সময় বণ্টন করা হবে বলেও জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়েও আইনি প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রকে আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান ও আইন মেনেই পরিচালনা করতে হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তা কোনো অবৈধ বা আরোপিত আদেশের মাধ্যমে নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনের বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা যায় না। অথচ গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়।

এই আদেশের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের দাবি অসাংবিধানিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটে জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে আদেশে এমন কিছু প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি ভিন্ন প্রশ্নের জন্য একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা যৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই সংস্কার পরিষদের শপথ বা অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয় সামনে আসবে।

চলতি অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সামনে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এই অধিবেশনে সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত হলে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা যেতে পারে।

সবশেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির কাছে সরকার অঙ্গীকার করেছে যে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিটি শব্দকে সম্মান করা হবে। সংসদে আলোচনা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রাষ্ট্রকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪