রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আধুনিক জীবনযাত্রা আমাদেরকে এমন এক ব্যস্ত ও চাপপূর্ণ বাস্তবতায় নিয়ে গেছে, যেখানে অজান্তেই আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলছি যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের ক্ষতি ডেকে আনছে। অবিরাম মোবাইল ব্যবহার, ঘুমের অনিয়ম, অতিরিক্ত তথ্যের চাপ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সবকিছু মিলেই তৈরি করছে এক নতুন ধরনের “ব্রেন ফ্যাটিগ”। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস সচেতনভাবে বদলাতে পারলে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি অভ্যাস সম্পর্কে
ডিজিটাল উদ্দীপনার অতিরিক্ত চাপ
প্রতিবার ফোন ভাইব্রেট করা বা নোটিফিকেশন এলে আমাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়। বাইরে থেকে এটি সামান্য মনে হলেও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য এটি বেশ ব্যয়বহুল। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার মনোযোগ ভেঙে গেলে আবার গভীর মনোযোগে ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। সারাদিন এভাবে মনোযোগ ভাঙতে থাকলে মস্তিষ্কের শক্তি দ্রুত ক্ষয় হয় এবং দুপুরের মধ্যেই ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় ফোন বা অন্যান্য বিভ্রান্তিকর বিষয় দূরে রাখা ভালো।
ঘুমের মানের অবনতি
অনেকেই মনে করেন সাত ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট। কিন্তু সেই ঘুম কতটা গভীর এবং মানসম্মত সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য পরিষ্কার করে, যা এক ধরনের প্রাকৃতিক ডিটক্সের মতো কাজ করে। কিন্তু রাতে মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের নীল আলো এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট ব্যবহার বন্ধ রাখা এবং ঘর ঠান্ডা ও অন্ধকার রাখা।
অতিরিক্ত তথ্যের চাপ
বর্তমান যুগে আমরা এক দিনে যত তথ্য গ্রহণ করি, অতীতে একজন মানুষ তার পুরো জীবনে এত তথ্য পেত না। সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মতামতের সংঘর্ষসব মিলিয়ে মস্তিষ্কে তৈরি হয় এক ধরনের তথ্যের চাপ। এতে মস্তিষ্কের শক্তি অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাছাই করতেই ব্যয় হয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই তথ্য গ্রহণে সংযমী হওয়া জরুরি। বিশ্বস্ত কয়েকটি উৎস থেকে সীমিত সময় ধরে তথ্য নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
আজকের কর্মজীবনে অনেকেই অফিসের কাজের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেন না। রাতে দেরি পর্যন্ত কাজ করা বা সবসময় মানসিক চাপে থাকা শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে এটি মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অংশের ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মতো সহজ কৌশল অনুশীলন করা উপকারী হতে পারে।
শারীরিক নড়াচড়ার অভাব
মানুষের শরীর দীর্ঘ সময় বসে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায় এবং স্ট্রেস হরমোন জমতে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কে BDNF নামের একটি উপকারী উপাদান তৈরি করে, যা নিউরনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ভারী ব্যায়াম না করলেও অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজন সুষম জীবনযাপন পর্যাপ্ত ঘুম, সীমিত ডিজিটাল ব্যবহার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া। এসব অভ্যাস মেনে চললে মস্তিষ্ক থাকবে সতেজ এবং কর্মক্ষম।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম