নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খাল পুনঃখননের অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির বিরুদ্ধে। এতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নেত্রকোণা সদর উপজেলা কাঞ্চনপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের জমির মালিক কৃষকদের মধ্যে। এঘটনায় জমির মালিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন মারাত্মক আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কোনো প্রকার অধিগ্রহণ ছাড়াই খাল পুনঃখননের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকা। কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান (ওয়াসিম) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে আইপিসিপি প্রকল্পে ধলাই খাল ৫.৬৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পুনঃখননের কাজ পায় মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কৃষকদের দাবি, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সরকারি খাস জমি থাকলেও অবশিষ্ট প্রায় দুই কিলোমিটার ব্যক্তি মালিকানাধীন দুই ফসলী আবাদি জমির ওপর দিয়ে খাল খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাবুর বাড়ি থেকে সহিদ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত অংশে রয়েছে বসতবাড়ি, দোকানপাট, পুকুর ও ফসলি জমি। উঁচু জমির উপর দিয়ে খাল নির্মাণ হলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ এ যেনো খাল কেটে কুমির আনার শামিল।
উজানের পানি নিষ্কাশনের জন্য পূর্ব থেকেই সংযোগ খাল রয়েছে, যা ত্রিমোহনী খাল ও ধলাই নদীর সঙ্গে যুক্ত। তাই নতুন করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খাল খননের প্রয়াজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেত্রকোণা সদর ভূমি অফিস জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কাঞ্চনপুর মৌজার থেকে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত খাল ১ নম্বর খতিয়ানে খাল শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমি থাকলেও বাজে আমলী মৌজার মুচির বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৯০০ ফুট জমি সিএস, এসএ ও বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি। এর ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক এলজিইডিকে লিখিত নোটিশ দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া খাল খনন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নির্দেশনার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খনন কাজ চালিয়ে জমির ফসলের ক্ষতি করেছে। এমনকি বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষেও জড়াচ্ছে। অনেকই আহত হয়ে নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কৃষকরা অবিলম্বে খাল পুনঃখনন কাজ স্থগিত রেখে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কাজ করা হচ্ছে। ভূমি অফিস পুনরায় প্রত্যয়ন দিলে অফিসিয়ালি প্রসেস করা হবে।
এদিকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, এলজিইডিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে-ব্যক্তি মালিকানা ভূমি অধিগ্রহণ করে তারপর খাল খনন করতে হবে। অধিগ্রহণ ছাড়া খননের সুযোগ নেই।
সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিতে খাল খননের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি এলাকাবাসীর।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম