চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ডগ স্কোয়াডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অপরাধীরা প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তারা একটি ট্রাক দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেয় এবং একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যানবাহন দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। পরে ট্রাক সরিয়ে এবং ভাঙা কালভার্টের অংশ ইট-বালি দিয়ে ভরাট করে বিকল্প উপায়ে যৌথ বাহিনীর গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকা জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূল অতিক্রম করে আলীনগরে প্রবেশের আগে সড়কে একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল, যা সরিয়ে বাহিনী এগিয়ে যায়। পরে আরেক স্থানে একটি কালভার্ট ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। সেটি অস্থায়ীভাবে মেরামত করে বাহিনীর গাড়ি সেখানে প্রবেশ করে।
অভিযানের তথ্য কীভাবে আগেই ফাঁস হলো,এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকাটি যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের বিভিন্ন সোর্স রয়েছে। সিএনজি অটোরিকশা চালকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আগাম তথ্য পেয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও জানান, অভিযান চলমান থাকায় এখনই কত অস্ত্র উদ্ধার বা কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এলাকায় যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বিঘ্নে অভিযান পরিচালনা করা যায়।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে এ এলাকায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭–এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিন–সহ ২৯ জনকে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হলেও পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই ঘটনায় জড়িত অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি