আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে দেশটিকে ‘আজ খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোস্যাল দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে লাগাতার হামলার কারণে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, ইরান আগে মধ্যপ্রাচ্যের “বুললি” বা শক্তিশালী প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আচরণ করত, কিন্তু এখন তারা “মধ্যপ্রাচ্যের পরাজিত শক্তি” হয়ে গেছে এবং আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই অবস্থাই থাকবে।
এর আগে তিনি সংঘাত শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, যদি তেহরান এই শর্ত মেনে নেয় এবং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আক্রমণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না হলে তাদের দিকে আর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে না।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বোমা হামলার অভিযান এখনও সামনে থাকতে পারে।
বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক স্থাপনা, নেতৃত্ব এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১,২০০ জনের বেশি, লেবাননে ২০০ জনের বেশি এবং ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে দুবাই শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। সতর্কতা জারি হলে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিমানবন্দরের টানেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত এখন দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি