| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাম্প ঘুরে ঘুরেই শেষ হচ্ছে তেল! ভোগান্তি চরমে

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৭, ২০২৬ ইং | ১৯:২১:০৬:অপরাহ্ন  |  ৫৫৩৬৬৮ বার পঠিত
পাম্প ঘুরে ঘুরেই শেষ হচ্ছে তেল! ভোগান্তি চরমে

স্টাফ রিপোর্টার: মো. কামরুল হাসান ঢাকায় পাঠাও চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মোটরসাইকেলে তেল নিতে শনিবার বিকেল তিনটা থেকে তেজগাঁও, লিংক রোড ও সাতরাস্তা এলাকার অন্তত ছয়–সাতটি পাম্প ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু কোথাও তেল পাননি। কোথাও লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা পর জানানো হয়েছে—তেল শেষ। শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটে যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশের একটি পাম্পে। সেখানে গিয়ে দেখেন শতাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। এখানে পাব কি না তাও জানি না।”

পাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। প্রত্যেক বাইকে একজন করে চালক, সবার লক্ষ্য একটাই—মোটরসাইকেলে তেল ভরা। মাঝেমধ্যে সামনে থাকা দুই–তিনটি বাইক একটু এগোলেই হইচই পড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, এবার বুঝি তাদের পালা, কিন্তু আবারও অপেক্ষা দীর্ঘ হয়।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কজুড়ে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একই পাম্পে তেল নিতে আসা মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারের সারিও সিভিল এভিয়েশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পর্যন্ত পৌঁছেছে।

পাম্পে অপেক্ষা করা বাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে তেল না পেয়ে এখানে এসেছেন। অনেকেই তেলের নাগাল পেয়ে আবার শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে অন্য পাম্পে ছুটেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চাকরিজীবী, রাইডশেয়ার চালক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ।

নাসির উদ্দিন নামের এক বাইকার জানান, গত দুই দিন তিনি এ পাম্পে এসে লাইনের কারণে ফিরে গেছেন। আজ তার বাইকের তেল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া অনিশ্চিত। সরকার যদি নির্দিষ্ট করে সবার জন্য ৫০০ টাকার তেল দিতো, তাহলে অন্তত সবাই কিছুটা পেত।”

বিকেল তিনটায় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তেল পাননি। রোজার মাস হওয়ায় কয়েকজন বাইকার মোটরসাইকেলে বসেই শুধু পানি খেয়ে ইফতার করেছেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাশেদ মাহমুদ বলেন, তিনি আজ পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে আটকে গেছেন। স্ত্রী বারবার ফোন করলে তিনি ভিডিও কলে লাইনের দৃশ্য দেখিয়ে বলেন, “তোমরা ইফতার করে নাও, আমি কখন ফিরতে পারব বলা যাচ্ছে না।”

পরে তিনি জানান, আজ তেল না নিলে পরদিন অফিসে যেতে সমস্যায় পড়বেন, তাই কষ্ট হলেও অপেক্ষা করছেন।

বিজয় স্মরণীর বাসিন্দা আরিফুল ইসলামও একই ভোগান্তির কথা জানান। তিনি বলেন, ভেবেছিলেন দ্রুত তেল নিয়ে বাসায় ফিরবেন, কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে।

আরেক বাইকার মিজানুর রহমান জানান, আগের দিন বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ঢাকার কয়েকটি পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। আজ আবার অফিস শেষে তেলের খোঁজে বের হয়েছেন।

তিনি বলেন, “গত রাতে খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। আজ রিজার্ভ তেলে বের হয়েছি। তেল না পেলে সত্যিই বিপদে পড়ব।”

পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই জানান, তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ প্রস্তাব দেন, সীমিত পরিমাণে হলেও সবার মধ্যে তেল বিতরণ করলে অন্তত এত দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমতে পারে। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪