বাগেরহাট প্রতিনিধি: দেশে হাঁসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সরকারি হাঁস প্রজনন খামারের ৭০ জন আউটসোর্সিং শ্রমিক চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রমজানের এই সময়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। অনেকেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত এক দশকে হাঁসের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে হাঁসের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি ২২ লাখ, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫ লাখে। এ উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত সরকারি হাঁস প্রজনন খামারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
২০১৪ সালে ‘হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন প্রকল্প (৩য় পর্যায়)’ এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪টি হাঁস প্রজনন খামার স্থাপন করা হয়। এসব খামারে হ্যাচারি প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ একদিন বয়সী হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়, যা দেশজুড়ে হাঁসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্প চলাকালীন সময়ে প্রতিটি খামারে আটজন করে অদক্ষ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের বেতন উন্নয়ন বাজেট থেকে দেওয়া হতো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে ২০১৯ সালে আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে প্রতি খামারে পাঁচজন করে মোট ৭০ জন শ্রমিককে তিন বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেতন সরকারের রাজস্ব বাজেট থেকে প্রদান করা হতো এবং প্রতি বছর নভেম্বরে চুক্তি নবায়ন করা হতো।
তবে চলতি বছরের নভেম্বরের পর থেকে চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন বন্ধ রয়েছে। গত চার মাস ধরে নিয়মিত কাজ করলেও তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ২০তম গ্রেডে মাসিক মাত্র ১৬ হাজার টাকা বেতনে কর্মরত এসব শ্রমিক এখন পরিবার নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন।
একজন আউটসোর্সিং কর্মচারী বলেন, “আমরা বছরের ৩৬৫ দিন খামারে কাজ করি। হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি মেশিন সারাক্ষণ চালু থাকে, তাই ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। রমজানে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খামারের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৯ সাল থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের জন্য রাজস্ব খাতে বাজেট থাকলেও চুক্তিগত জটিলতার কারণে বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তিনি মানবিক দিক বিবেচনায় ঈদের আগেই বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ২০২৫ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন করে চুক্তি হলেও সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কর্মরত কর্মচারীদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাই নতুন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হলেও চাকরি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
তাদের দাবি, দ্রুত বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। অন্যথায় তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে এই ৭০ কর্মচারীর পরিবার রমজানে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে—যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি মানবিক উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন