স্টাফ রিপোর্টার: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব আজ। এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ নামেও পরিচিত। বৈষ্ণব অনুসারীদের মতে, দোল পূর্ণিমায় রাধিকা ও তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেদিনকে স্মরণ করেই ভক্তরা এদিন মেতে ওঠে রং খেলায়। হিন্দুধর্মে এ দিন প্রেম, বসন্ত ও মঙ্গলের প্রতীক।
দোলযাত্রা ও গৌর পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, হোম যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। উৎসবে অংশ নিতে সকাল থেকেই ভিড় জমতে দেখা যায় বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এদিন ঈশ্বরের পায়ে আবির ছোঁয়ানোর পর সে শুদ্ধ রঙে নিজেকে রাঙাতে শুরু করেন ভক্তরা। মেতে ওঠেন আবির খেলায়। সব অন্ধকার ঘুচে জীবন যেন রঙের ছোঁয়ায় রঙিন হয়ে ওঠে সে লক্ষ্যেই প্রতীকী এ রঙের খেলায় মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
ভক্তদের চাওয়া, আবিরের শুদ্ধ রং লাগুক সবার মনে। সে রঙের ছোঁয়ায় বন্ধ হোক নারী সহিংসতাসহ সব অপকর্ম।
এদিন, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার রঙের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে হোলি উৎসবে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাক-ঢোল, আবির-গুলাল আর সঙ্গীতের তালে সরু গলির এই প্রাচীন জনপদ প্রাণ ফিরে পায়। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষ অংশ নেন রঙের এ মিলনমেলায়।
ঐতিহাসিকভাবে পুরান ঢাকার অন্যতম প্রাচীন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত শাঁখারী বাজারে প্রতিবছরই বর্ণিল আয়োজনে পালিত হয় হোলি। শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এ উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
সরেজমিনে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে দেখা যায়, প্রধান সড়কজুড়ে রঙিন আবিরের আস্তরণ। বিভিন্ন বাড়ির ছাদ ও বারান্দা থেকে রঙ ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাসিন্দারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষও শাঁখারী বাজারে এসে যোগ দেন আনন্দে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৃষা সাহা বলেন, শাঁখারী বাজারের হোলি আলাদা এক অনুভূতি। ছোটবেলা থেকেই এ উৎসব দেখে আসছি। সবাই মিলে আনন্দ করি, কোনো ভেদাভেদ থাকে না।
স্থানীয় তরুণ অর্ণব চক্রবর্তী জানান, এটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। মুসলিম প্রতিবেশীরাও এসে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সূত্রাপুরের বাসিন্দা পূর্ণিমা রায় স্বামী-সন্তানদের নিয়ে অংশ নেন উৎসবে। তিনি বলেন, সকালে পূজা শেষে রঙ খেলা শুরু হয়। নিরাপত্তার বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভ দাস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাঁখারী বাজারের হোলির ছবি দেখে অনেকেই এখানে আসেন। তবে ঐতিহ্য বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়া সাহা বলেন, রঙের এ উৎসব ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বার্তা বহন করে।
উৎসব উপলক্ষে স্থানীয়দের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত শাহ জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। সিটি করপোরেশন নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
শুধু শাঁখারী বাজারেই নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মন্দির, রমনা কালী মন্দির, চারুকলা অনুষদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকার অনেক স্থানেই পালিত হয়েছে হোলি উৎসব।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব