আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটির তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন জবানবন্দি দিতে যাচ্ছেন। তদন্তটি প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের প্রভাববলয় ও অপরাধ নেটওয়ার্ককে ঘিরে।
ক্লিনটন দম্পতির জবানবন্দি নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় তাদের বাসভবনের নিকটে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হিলারি ক্লিনটন এবং শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য শুনানি হবে বন্ধ কক্ষে, শপথের অধীনে।
কংগ্রেশনাল ডিপোজিশন হলো আদালতের বাইরে কংগ্রেসীয় তদন্তের অংশ হিসেবে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য প্রদান। এতে কমিটির আইনজীবী ও তদন্তকারীরা প্রশ্ন করেন এবং পুরো কার্যক্রম রেকর্ড ও লিপিবদ্ধ করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিলে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।
প্রথমদিকে ক্লিনটনরা তলবের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানান এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তবে কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ‘কনটেম্পট অব কংগ্রেস’ আনার ইঙ্গিত দিলে তারা শেষ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।
কমিটি মূলত এপস্টিন ও তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলকে ঘিরে ফেডারেল তদন্তে সম্ভাব্য গাফিলতি, কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু, যৌন পাচার চক্রের কার্যক্রম এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর বিচার শুরুর আগেই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়; কর্তৃপক্ষ তা আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করে।
বিল ক্লিনটন স্বীকার করেছেন, ২০০০–এর দশকের শুরুতে তিনি এপস্টিনকে চিনতেন এবং একাধিকবার তার ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন। তার দাবি, এসব সফর ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং তিনি এপস্টিনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এপস্টিনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি জানিয়েছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তার কখনও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ হয়নি।
কমিটির নেতারা বলেছেন, ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের সাক্ষ্য প্রয়োজন। এই জবানবন্দি থেকে নতুন কোনো তথ্য উঠে আসে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি