রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাসের শাসনামলে ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেননি বা সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। উল্টো, রাষ্ট্রপতির দুটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।
সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিবার বিদেশ সফর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের বিস্তারিত জানানোর কথা। কিন্তু ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে একবারও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, যা সংবিধান পরিপন্থী।
শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জারি করা অধ্যাদেশগুলোর অনেকগুলোর প্রয়োজনীয়তা ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধান মেনে চলেননি। সংবিধানে বলা আছে, তিনি যখনই বিদেশ সফরে যাবেন, সেখান থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সফরের বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। কী আলোচনা হয়েছে, কী ধরনের চুক্তি হয়েছে—এসব বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অবহিত করার কথা। কিন্তু তিনি প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও একবারও রাষ্ট্রপতিকে জানাননি বা সাক্ষাৎ করেননি। এছাড়া ড. ইউনূসের শাসনামলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হলেও এ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তার দুটি বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়েছিল। এর একটি ছিল কসোভো সফর। গত ডিসেম্বরের ঘটনায় কসোভো থেকে রাষ্ট্রপতিকে কীনোট পেপার উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাকে যেতে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। ওই সেমিনারে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তার পক্ষে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে চিঠিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন