স্টাফ রিপোর্টার: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে একদল যুবকের স্লোগানকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ২২ মিনিটে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। এটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমির হিসেবে তার প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলে একদল যুবক তাকে উদ্দেশ্য করে ‘রাজাকার, রাজাকার’, ‘একাত্তরের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’—এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান দেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘ভাষা সৈনিক গোলাম আযম, লও লও লও সালাম’ স্লোগান দিলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লোগানকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশে অবস্থানরত অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে আসেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
উত্তেজনার সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ জোটের সংসদ সদস্যরা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হট্টগোল শুরু হলে তারা দ্রুত জামায়াত আমিরের গাড়ির কাছে ফিরে আসেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে কিছু সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পরবর্তীতে ডা. শফিকুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা জোটের নেতারা শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি