| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জানুয়ারিতে সড়কে ৪৮৭ প্রাণহানি, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ মৃত্যু

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬ ইং | ১২:৪২:৪৭:অপরাহ্ন  |  ৬৮৫৫৮৩ বার পঠিত
জানুয়ারিতে সড়কে ৪৮৭ প্রাণহানি, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ মৃত্যু

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেই দেশের সড়কে ঝরেছে ৪৮৭ প্রাণ। মাসজুড়ে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার- যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়।

মোটরসাইকেলেই সর্বাধিক প্রাণহানি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৯৬ জন, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৮ জন ও শিশু ৫৭ জন।

এ ছাড়া ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩২ জনের, আহত হয়েছেন ১৭ জন।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র

নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৯৬ জন, বাসের যাত্রী ২১ জন, ট্রাক-সহ পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন।

দুর্ঘটনার ধরন ও স্থান

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে- ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী, ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছেন। বিপরীতে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন।

পেশাভিত্তিক নিহত

নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ২ জন, শিক্ষক ১৩ জন, চিকিৎসক ২ জন, সাংবাদিক ৬ জন, আইনজীবী ৪ জন, ব্যাংক ও বীমা কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, এনজিও কর্মী ১৯ জন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ২৭ জন, ব্যবসায়ী ২১ জন, বিক্রয় প্রতিনিধি ২৬ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, নির্মাণ শ্রমিক ৬ জন, প্রতিবন্ধী ৩ জন এবং শিক্ষার্থী ৫৭ জন রয়েছেন।

কারণ ও সুপারিশ

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতনের অভাব, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজিকে দায়ী করা হয়েছে।

সংগঠনটি দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ, রেল ও নৌপথ উন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪