স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কার্যক্রম প্রায় ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
অর্ডিন্যান্স ও নির্বাহী আদেশের কার্যকারিতা
শফিকুল আলম বলেন, সরকার যে অর্ডিন্যান্স ও নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, তার অধিকাংশই ভবিষ্যৎ সংসদে আইনে পরিণত হবে। প্রত্যেকটি উদ্যোগই আইনে রূপ নেবে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করি। এই সরকার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, এটি একটি বিপ্লবের ফসল। জনগণ যেভাবে পরিবর্তন এনেছেন, আমরা সেই পরিবর্তনের সুরক্ষা নিশ্চিত করছি।
তিনি জানান, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এই প্রচেষ্টা জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক হয়েছে।
সাংবাদিক অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপট
শফিকুল আলম তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর সাংবাদিকতা করেছি। শেষ ১৮ মাস ধরে এই সরকারকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। যে ধরনের ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং অসঙ্গতিপূর্ণ প্রগতিশীলতা আমরা পেয়েছি, সেই প্রেক্ষাপটে এই সরকার প্রায় ৯০ শতাংশ সফল বলে আমার ব্যক্তিগত মত।
তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের সফলতা বিচার করার ক্ষেত্রে একক বা কিছু সীমিত বিষয় দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অর্জন ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হলে সরকার কতটা কার্যকর হয়েছে তা স্পষ্ট হবে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
শফিকুল আলম বলেন, সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার বেশিরভাগই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, নাগরিক সেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং সরকারি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, আর্থিক লেনদেনের সহজীকরণ, এবং সরকারি দপ্তরের সেবার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের আরও আশ্বাস দেন যে, সংসদ বসার পর এই অর্ডিন্যান্স ও উদ্যোগগুলো পাস হয়ে দেশের নীতি ও কাঠামোগত পরিবর্তনগুলোকে কার্যকর করবে, এবং জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল সরাসরি অনুভব করবে।
শফিকুল আলমের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনকে এই ধরনের পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে মূল্যবান তথ্য মিলবে এবং সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি