রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শপথ গ্রহণকে ঘিরে সকাল থেকেই সরব জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।
সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে শপথ অনুষ্ঠান। শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রথমেই বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশ এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচিত সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।
টানা তিনটি সংসদ- অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর পর বিএনপির নেতারা আবার সংসদ ভবনে প্রবেশ করছেন। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জনের পর এবারই দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে ফিরছে।
বিএনপির এমপি ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নতুন সদস্য হিসেবে সংসদ ভবনে পা রাখা তার জন্য বড় প্রাপ্তি। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান এবং ধানের শীষের বিজয়ে দেশ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরীও দেড় যুগ পর সংসদে শপথ নিতে যাওয়াকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এক সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা সংসদে এসেছিলেন, এবার নতুন প্রেক্ষাপটে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
দেশের আইনসভার সদস্যরা সাধারণত আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে শপথ নেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে না থাকায় এবার নতুন এমপিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকেই শপথ নিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর। ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরাই এ পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে এমপি হিসেবে শপথের পর তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথকভাবে শপথ নিতে হবে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, দুটি শপথই পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে