স্টাফ রিপোর্টার: রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কলকাতার টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিও লাগোয়া একটি বহুতল আবাসনের পাঁচতলায় হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ভবন, শুরু হয় হুড়োহুড়ি। আর সেই ভবনেই থাকেন টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র, অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত, অভিনেত্রী-সাংসদ নুসরাত জাহান এবং অভিনেত্রী-রাজনীতিক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গেছে, বাতাসের দাপটে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সিঁড়ি, করিডোর ফলে লিফটও বন্ধ হয়ে যায়। ছয় তলার ফ্ল্যাটে থাকা যশ-নুসরাতের পরিবারসহ বহু আবাসিক দ্রুত নিচে নেমে আসেন। অন্যদিকে, আঠারো তলায় থাকা পরিচালক শুভ্রজিৎ মিত্র তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে আপৎকালীন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন।
কেউ আহত হননি। সবাই নিরাপদে আছেন। আগুন লাগার মিনিট পনেরোর মধ্যে দমকলের তিনটি ইঞ্জিন চলে আসে। ঘণ্টাখানেক লেগেছিল আগুন নেভতে।
আমাদের আবাসনে তো কর্মীদের একটা দল সর্বক্ষণ থাকেন, তারাও কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন আগুন নেভাতে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুন এতটা ছড়িয়ে যায় ও কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।
তা কিভাবে লাগল আগুন? শুভ্রজিৎ বললেন, যেটুকু শুনেছি, সেটুকুই বলতে পারি ,তবে আমি নিশ্চিত নই যে এটাই কারণ। যাই হোক, যা শুনছি তা হল পাঁচতলার ওই পরিবার শিবরাত্রির জন্য পূজা-আরতি করছিল। এরপর তারা আরতির আগুন না নিভিয়েই নাকি আবাসন চত্বরের মন্দিরে পূজা দিতে যান।
আগুন নেভানোর পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও আতঙ্কের খানিক রেশ পাওয়া গেল যশের গলার স্বরে। অভিনেতা-প্রযোজক বললেন, আমরা সবাই ঠিক আছি। বাচ্চারাও একদম ঠিক আছে। প্রপার্টি ড্যামেজ ছাড়া আর কিছু হয়নি। কোনও মানুষ যে আহত হননি, এটাই সবথেকে বড় ব্যাপার। আমাদের ফ্ল্যাটটি যেহেতু একেবারে ওই ফ্ল্যাটটির ওপরের তলেই, ফলে বুঝতেই পারছেন আতঙ্কটা। যাই হোক, সিঁড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি কোনওরকমে নেমে নিচে চলে গিয়েছিলাম সবাই। বহু আবাসিকরাই নিচে নেমে এসেছিলেন। এখন সব ঠিক আছে। য়ে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম