ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় এক জামায়াত কর্মীকে মারধর ও দাড়ি উপড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তি নুরুল আবছার ইব্রাহীম মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা। অভিযুক্ত বেলাল হোসেন পাশের বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের আগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নুরুল আবছার জানান, দুপুরে নামাজ শেষে বাড়িতে প্রবেশ করার পর অভিযুক্ত বেলাল হোসেন তার ঘরে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো হয় এবং দাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার একপর্যায়ে তার দাড়ি উপড়ে ফেলা হয়।
নুরুল আবছারের স্ত্রী জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময় এর আগেও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, স্বামীকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হচ্ছিল। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও হেনস্তা করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নুরুল আবছারকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির গাজী সালেহ উদ্দিন জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, জনগণের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বরদাশত করা হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের যত বড় কর্মীই হোন না কেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্তকে এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং তাকে খুঁজে বের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি