বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটে নির্বাচনের পর দুই দিনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের আগেই সদর ও কচুয়া উপজেলায় উত্তেজনা শুরু হয়। নির্বাচনের পর তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ১৪টি বসতবাড়ি এবং শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ এলাকায় ছয়টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুইজন এবং শনিবার ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য পপলু সরদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর ও জামায়াত নেতা মুজাহিদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়া পাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত ওসমান সরদার সদর উপজেলার পাড়নওয়া পাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করা ওসমানের চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
আহত ইমরান সরদারের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা চালালে গ্রামবাসী প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, পারনওয়া পাড়া ও ছিটাবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের কিছু ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি