| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে দ্বিতীয় মার্কিন রণতরী

ইরানে শাসন পরিবর্তন ‘সেরা সমাধান’ হতে পারে: ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬ ইং | ১৩:৪০:৫৮:অপরাহ্ন  |  ৭৪২৬৬৮ বার পঠিত
ইরানে শাসন পরিবর্তন ‘সেরা সমাধান’ হতে পারে: ট্রাম্প
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানে শাসন পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) ‘সম্ভবত সবচেয়ে ভালো বিষয়’ হতে পারে।’ একই সময়ে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। ওমানের প্রতিনিধিরা সেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন। একই দিনে তারা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না,এ প্রশ্নে তার উত্তর, মনে হয় সেটাই সবচেয়ে ভালো হতে পারে। তবে কাকে তিনি ইরানের নেতৃত্বে দেখতে চান, তা স্পষ্ট করেননি; শুধু বলেন, এমন মানুষ আছে।

তিনি বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা কথা বলছে, বলেই যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা অনেক প্রাণ হারিয়েছি। কারও পা উড়ে গেছে, হাত উড়ে গেছে, মুখ উড়ে গেছে। অনেক দিন ধরেই এটা চলছে।

ওয়াশিংটন চায়, পারমাণবিক আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হোক। ইরান বলেছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু এতে যুক্ত করা যাবে না।

চুক্তি না হলে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প; পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ায় সম্ভাব্য বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। গত বছরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

পারমাণবিক স্থাপনায় আর কী লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “ধুলো।” তিনি যোগ করেন, যদি আমরা করি, সেটাই হবে মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ; তবে যা অবশিষ্ট আছে, আমরা সম্ভবত তা নিয়েই নেব।

দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, সামরিক সম্পদ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford মধ্যপ্রাচ্যে যোগ দেবে। এটি ইতোমধ্যে সেখানে অবস্থানরত USS Abraham Lincoln, একাধিক নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের সঙ্গে যুক্ত হবে।

ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন থাকা জেরাল্ড আর. ফোর্ড চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় অভিযানে অংশ নিয়েছিল। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, চুক্তি না হলে আমাদের এটি প্রয়োজন হবে... প্রয়োজন হলে প্রস্তুত রাখব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রণতরীটির মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে মোট ১১টি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে; এগুলো সীমিত সম্পদ এবং সাধারণত অনেক আগেই মোতায়েন সূচি নির্ধারিত থাকে।

জেরাল্ড আর. ফোর্ডে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর রয়েছে এবং এতে ৭৫টির বেশি সামরিক বিমান বহন করা যায়—যার মধ্যে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান ও ই-২ হকআই আগাম সতর্কীকরণ বিমান রয়েছে। উন্নত রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও নৌ-চলাচল সমন্বয় করতে সক্ষম।

সহযোগী জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে টাইকেরনডেরোগা-শ্রেণির নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজার নরম্যান্ডি এবং আরলেই বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার থমাস হাডনার, র্যামেজ, কার্নি ও রুজভেল্ট—যেগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা, জাহাজবিধ্বংসী এবং সাবমেরিনবিরোধী সক্ষমতাসম্পন্ন।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, সমুদ্রে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন জাহাজে কর্মরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সামরিক তৎপরতা বেড়ে গেলে এমন মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো অস্বাভাবিক নয় বলে জানানো হয়েছে।রয়টার্স

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪