রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মো. মাহবুবার রহমানের গাড়ি আটকে ‘দোসর’ স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরীর সরেয়ার তল বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাপা প্রার্থীর গাড়ি ওই এলাকায় পৌঁছালে এনসিপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী গাড়ি ঘিরে ধরে এবং ‘দোসর’ স্লোগান দিতে থাকে। পরে গাড়ির চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পারুল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে মাহিগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবার রহমান সাংবাদিকদের জানান, পীরগাছা থেকে রংপুর নগরীতে আসার পথে হাউদারপাড় এলাকা অতিক্রম করার সময় ৭–৮টি মোটরসাইকেলে এনসিপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা গাড়ি ধাওয়া করে। সরেয়ার তলে গাড়ি আটকে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার জন্য। আমাদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন কালবেলা বলেন, “জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ এবং ভোটারদের টাকা বিতরণ করছেন। সাধারণ মানুষ তাকে আটকালে আমাদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। পরে জাপা প্রার্থী নগরীতে সমর্থক ডেকে এনসিপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমরা প্রশাসনের কাছে প্রমাণ পাঠিয়েছি এবং জাপা প্রার্থী ও তার সমর্থকদের শাস্তির দাবি করছি।”
পীরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, “জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী এই ঘটনায় জড়িত নয়। প্রার্থী ও দলের সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।”
রংপুর মাহিগঞ্জ থানার ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। একজনকে আটকানো হয়েছিল, তাকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসন পরিস্থিতি মনিটর করে নির্বাচনের সময় শান্তি বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি