রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চলতি বছর হজ শেষে দুটি প্যাকেজের সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত বছরের মতো এবছরও সরকারি খরচে কাউকে হজে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা জানান।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, গত দেড় বছর অত্যন্ত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জুগানো হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক হজযাত্রী প্রতি দুই সৌদি রিয়াল হিসেবে একটি মেডিকেল সার্ভিস চুক্তি করা হয়েছিল। এবছর তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে এই সেবা দেশের সব হাজি বিনামূল্যে পাবেন।
ড. খালিদ হোসেন আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীদের তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দিতে পারবো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের পর হজ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যৌক্তিক খরচে হজ পালনের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা হ্রাস করা হয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের হজে বিমানভাড়া ছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৬ সালে কমিয়ে আনা হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকায়। তিনি আরও বলেন, এটি আরও কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, গত বছর সরকারি মাধ্যমে হাজিদের হজ খরচ নির্বাহ শেষে ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সির অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসেবে পড়েছিল, যা অব্যাহত যোগাযোগের মাধ্যমে ফেরত আনা হয়েছে।
ড. খালিদ হোসেন জানান, গত বছর হজ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং টিম সদস্য সংখ্যাও ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। গত বছর সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজ নেওয়া হয়নি এবং এবছরও নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, গত বছর আমাদের হজ প্যাকেজ ছিল দুটি, এবছর তিনটি। সীমিত বা নির্দিষ্ট আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যাতে হজ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে; মাত্র ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার।
এছাড়া, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমে হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস চার্জ হ্রাসের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল সাশ্রয় হয়েছে। এছাড়া, হজযাত্রীদের মক্কায় আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে হারাম শরীফ থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে, যাতে যাতায়াতের বিড়ম্বনা কমে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারেন।
ড. খালিদ হোসেন আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্যপদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, তবে আশা করা হচ্ছে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০ তম গ্রেডের ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলমান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম