ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির উত্তেজনার মাঝেই ভারত মহাসাগরে চাঞ্চল্যকর অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে চীনের দিকে যাত্রারত একটি বিশাল ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
জব্দ হওয়া জাহাজটির নাম অ্যাকুইলা ২। এটি ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের একটি বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হেগসেথ জানান, ক্যারিবিয়ান সাগর ছাড়ার পর থেকেই অ্যাকুইলা ২-এর ওপর নজর রাখছিল মার্কিন নৌবাহিনী। দীর্ঘ অনুসরণের পর সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে জাহাজটি দখলে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যখন কোয়ারেন্টাইন বা নিষেধাজ্ঞার কথা বলে, সেটি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আকাশ, স্থল কিংবা সমুদ্র—যেখানেই হোক, আইন অমান্য করলে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ব্যবস্থা নেবেই।”
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই অ্যাকুইলা ২ আন্তর্জাতিক জলসীমা পাড়ি দিয়ে চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অ্যাকুইলা ২ একটি সুয়েজম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার যা বিশ্বের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলোর একটি। এ ধরনের একটি ট্যাংকার একবারে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে সক্ষম। জব্দ করার সময় জাহাজটিতে আনুমানিক ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল।
জাহাজটির মালিক ভেনেজুয়েলার সরকার। জানা গেছে, অ্যাকুইলা ২-এর নেতৃত্বে একাধিক ট্যাংকার নিয়ে একটি বহর চীনের দিকে যাচ্ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর বাকি জাহাজগুলো দিক পরিবর্তন করে আবার ভেনেজুয়েলার বন্দরের পথে ফিরে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি জাহাজ জব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভেনেজুয়েলা, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম