| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জামালপুরে আ.লীগের ভোটই হতে পারে জামায়াতের জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ১৮:১১:৪২:অপরাহ্ন  |  ৭৯৬৫৯৯ বার পঠিত
জামালপুরে আ.লীগের ভোটই হতে পারে জামায়াতের জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি

জামালপুর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র ৩৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বাধীনতার পর ১৪, ১৮ ও ২৪ ছাড়া যে কয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, জেলার ৫টি আসনে ভোটের লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তাই ভোটে জিততে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে জামায়াত। তবে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এক সময়ের আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীরা।

জামালপুর-১ ও ২ আসনে বিএনপির সাবেক দুই এমপি এবং অন্য তিনটি আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থীরা। ফলে সাংগঠনিক অবস্থান মাঠ পর্যায়ে জনসমর্থনে বিএনপির প্রার্থীরাই ভোটের সমীকরণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন, জানান সাধারণ মানুষ। এদিকে সাংগঠনিক সুশৃঙ্খলা কাজে লাগিয়ে জনসমর্থন আদায়ে ভোটের মাঠে মরিয়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরাও।

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) উপজেলা সংসদী আসন নং ১৩৮। এই আসনের বিএনপির প্রার্থী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় পার্টির এ.কে.এম. ফজলুল হক ও গণঅধিকার পরিষদের রফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে এমপি ছিলেন তিনি, আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদকে হারিয়ে বিশাল ভোট ব্যবধানে বিজয়ী হন। ওই সময় সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিল্লাতের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। তবে সাংগঠনিক শক্তি ও গণসংযোগের দিক থেকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাজমুল হক সাঈদীর পরিচিতি লক্ষণীয়। এছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কয়েক বারের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়ে হাতপাখা নিয়ে ভোট যুদ্ধে লড়ছেন। আসনটিতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭০৭ জন।

স্থানীরা জানান, এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিএনপি প্রার্থী মিল্লাতের অবস্থান অনেকটাই সুসংহত, মত দেন অনেকে।

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ ছামিউল হক ফারুকী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ এবং অর্ণব ওয়ারেস খান (স্বতন্ত্র, ঘোড়া প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৮ জন।

স্থানীরা জানান, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাশেদ মোশারফকে হারিয়ে বিপুল ভোট ব্যবধানে এমপি নির্বাচিত হন সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি পাঁচ বছরে নদ-নদী ভাঙনকবলিত ইসলামপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করেন। নদী ভাঙন রোধসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এবারও ভোটারের মুখে উঠে আসছে তাঁর উন্নয়নকর্মের কথা।

জামায়াতের প্রার্থী ড. অধ্যক্ষ ছামিউল হক ফারুকীরও সৎজন ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে সু-খ্যাতি রয়েছে। তিনি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। তবে জুলাই–আগস্টের প্রেক্ষাপটে ভোটের হাওয়া অনেকটা তার দিকে এসেছে, বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তিনি জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দলের দায়িত্বে রয়েছেন।

এই আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) ১৪০ নং আসন। জেলার দ্বিতীয় সংখ্যক ৯ জন প্রার্থী এই আসনে লড়ছেন। বিএনপির প্রার্থী ৯০-এর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা মোস্তাফিজর রহমান বাবুল। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় জলবায়ুবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। জামায়াত ইসলামীর মজিবুর রহমান আজাদী, জাতীয় পার্টির মীর শামসুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের দৌলতুজ্জামান আনছারী, গণসংহতি আন্দোলনের ফিদেল নঈম, গণঅধিকার পরিষদের লিটন মিয়া, সাদিকুর রহমান, শিবলুল বারী রাজু ও ফারজানা ফরিদ স্বতন্ত্র।

এই আসনটি আওয়ামী লীগের মির্জা আজমের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম কৌশলে টানা সাতবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন লক্ষাদিক ভোট পেলেও মির্জা আজমের কৌশলের কাছে পরাজিত হন তিনি। এবারের নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় মুস্তাফিজুর রহমান বাবুলের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় আওয়ামী লীগের বুথ জয়-পরাজয়ের বড় ফ্যাক্টর হতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এই আসনে মূল ভোটযুদ্ধ হবে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন যিনি পাবেন, তাঁর জয়ের পাল্লাই ভারী হবে মনে করেন তারা। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৩ জন।

জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন নং-১৪১। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের জন্মভূমি এই আসন। যেকারণে বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত জামালপুরের এই আসন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ভাতিজা, জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম। তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। এই আসনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের ইকবাল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের কবির হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলী আকবর, কমিউনিস্ট পার্টির মাহবুব জামান জুয়েল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৯৯২ জন।

জামালপুর-৫ (সদর) আসন নং-১৪২। জেলার পাঁচটি আসনে মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক, ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলা বিএনপির একাধিকবারের সাধারণ সম্পাদক। জামালপুর পৌরসভার দুইবারের সফল মেয়র হিসাবে তার সুনাম রয়েছে। একজন বিনয়ী মানুষ হিসেবে জেলা সদরের ভোটারদের কাছে তার ব্যাপক কদর রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি যেমন কর্মীবান্ধব, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছে জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।

এই আসনটি আওয়ামী লীগের পুরোনো ঘাঁটি। এবার মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ও জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার। নম্রভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসাবে জনপ্রিয়তায় তিনিও পিছিয়ে নেই। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ ইউনুছ আহম্মদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আবু সায়েম মোহাম্মদ সা-আদাত-উল-করীম, গণঅধিকার পরিষদের জাকির হোসেন, জেএসডির আমির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির বাবর আলী খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শেখ আক্কাছ আলী, স্বতন্ত্র মাসুদ ইব্রাহিম ও হোছনেয়ারা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামালপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে সাধারণ মানুষ এবার জামায়াতকে ভোট দেবে এবং তাদের দলের প্রার্থীরা পাঁচটি আসনেই জয়ী হবেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, গত ১৭ বছর জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেছে তার দল। তাঁর ভাষ্য, জেলার সাতটি উপজেলার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দল ও অঙ্গ-সংগঠনের সক্রিয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যাদের শ্লোগান “সবার আগে বাংলাদেশ।” তাই জামালপুরের বাংলাদেশের পক্ষের দল বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫টি আসনেই বিএনপিকে বিপুল ভোট ব্যবধানে বিজয়ী করা সম্ভব।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪